স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট বিভাগের সীমান্ত পথ যেন দিন দিনে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। নিরাপদ রুট হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবহার করেই যাচ্ছে চোরাকারবারিরা। এসব পথ দিয়ে ভারত থেকে অবৈধপথে আসছে মাদক, অস্ত্র আর ভারতীয় পণ্য। সেই সাথে চুন থেকে পান কষলেই ভারতীয়রা বিনা বাধায় ধরে নিয়ে যায় মানুষ ও গবাদিপশু। পরে লাশ মিলছে সীমান্তের অপারের লোকালয় কিংবা জঙ্গলে।সিলেটের সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি সীমান্তের অপার থেকে লাশ আনা, বিএসএফ’র উৎপাত ঠেকানো এবং অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতে প্রতিবাদ পাঠানো আর পতাকা বৈঠকের মধ্যে সীমাবন্ধ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।এদিকে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফের একটি দল প্রবেশ করে কৃষকদের ক্ষেত নষ্ট করার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে কৃষকদের ফসল রক্ষায় দেওয়া খুঁটি উপড়ে ফেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি দল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ জানান। দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা একটি স্পিডবোটে সীমান্ত এলাকা ছেড়ে যান। জকিগঞ্জের মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিজিবি বিএসএফকে ডেকে এনে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশের ঘটনায় প্রতিবাদ জানায়। আবার যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছেসূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়া আদিবাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি ২ যুবক নিহত হয়েছে। একই সাথে আহত হয়েছে আরেক যুবক। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) তুরং ও বরমসিদ্ধিপুর সীমান্তে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব তুরং এলাকার আশিকুর রহমান ও একই ইউনিয়নের বরমসিদ্ধিপুর গ্রামের মো. ইয়াকুব উদ্দিন। এসময় পূর্ব তুরং এলাকার মোশাঈদ নামে একজন গুরুতর আহত হন।নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আশিকুর ও মোশাঈদ তুরং সীমান্ত এলাকায় গেলে, তাদের লক্ষ্য করে সীমান্তের ওপার থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে ভারতীয় খাসিয়া আদিবাসীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আশিকুর রহমানের। আহত মোশাঈদ সেখান থেকে পালিয়ে আসে। এর ঘণ্টাখানেক পর বরমসিদ্ধিপুর সীমান্ত এলাকায় যায় ইয়াকুব উদ্দিন। তাকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে খাসিয়ারা। বেশ কয়েকটি গুলি তার গায়ে লাগে। পরে স্বজনরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
Leave a Reply