হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা এলাকায় প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সাতকাপন ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি এম এ মজিদ শেখের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার নেতৃত্বে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। অভিযোগ রয়েছে, দিনে বালু উত্তোলন করে রাতের আঁধারে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। এতে হরিতলা এলাকার পাহাড়ি টিলা, ফসলি জমি ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে মাটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বালু উত্তোলনের মাত্রা আরও বেড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মজিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে বালু ও মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এম এ মজিদ শেখকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এদিকে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন,অপরিকল্পিতভাবে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এতে ভূমিধস, কৃষিজমি ধ্বংস এবং বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়কে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Leave a Reply