স্টাফ রিপোর্টার।। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ–বাহুবল) আসনে হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে নির্বাচনী সমীকরণ। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিনজুড়ে চলে নাটকীয়তা, টানটান উত্তেজনা আর দফায় দফায় বৈঠক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়াকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে দুই দফা বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ পদ ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি—সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আসনটিতে তৈরি হয়েছে নতুন দ্বিমুখি লড়াই। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে।
দুপুর ১২টার দিকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীর নাম ঘোষণা করা হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। তারা নিজেদের প্রার্থী বহালের দাবিতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলীকে মহাসড়কে আটকে রাখা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তাকে হবিগঞ্জ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মাত্র এক মিনিট আগে—বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিটে—শাহজাহান আলী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।
বিকেলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া শেখ সুজাত মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন প্লাজায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি দলীয় অনুগত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে তার পক্ষে মাঠে নামার অনুরোধ জানান। তবে শেখ সুজাত মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে তারেক রহমান নিজে দুই দফা বৈঠকে শেখ সুজাত মিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং ভবিষ্যতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় দল ও জোট—দুটোতেই অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।
জামায়াত প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোয় সম্ভাব্য ত্রিমুখি লড়াই ভেঙে গিয়ে এখন বিএনপির ভেতরেই দ্বিমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ে খেলাফত মজলিশের প্রার্থীর তেমন পরিচিতি না থাকায় স্থানীয়দের মতে, প্রকৃত লড়াই হবে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যেই।
স্থানীয়দের ভাষায়, “বাইরের প্রতিপক্ষ নয়, এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঘরের শত্রু।”
শেখ সুজাত মিয়া বলেন, “আমি ৪০ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছি। দল আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। তাই নেতাকর্মীদের চাপে প্রার্থী হয়েছি। তারেক রহমান কয়েকবার অনুরোধ করেছেন, কিন্তু তা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।”
ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, “আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছি। দলের নির্দেশ অমান্য করলে তার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। আমি নবীগঞ্জ ও বাহুবলকে উন্নয়নের মাধ্যমে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী বলেন, “দলের নির্দেশ অমান্য করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। শেখ সুজাত মিয়া যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে থাকেন, আজই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরী বলেন, “আমাকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। আগামীকাল থেকেই মাঠে নামবো।”
মো. শাহজাহান আলী বলেন, “সব জরিপে এগিয়ে থেকেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি।”
Leave a Reply