সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনটি জাতীয় রাজনীতিতে বরাবরই মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। প্রচলিত বিশ্বাস—এই আসনে যে দল জয় পায়, সেই দলই সরকার গঠন করে। স্বাধীনতার পর থেকে বেশিরভাগ নির্বাচনেই এই মিথ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৩ বার, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার করে বিজয়ী হয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনে প্রার্থী হতে চান বিএনপির দুই উপদেষ্টা—সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ধানের শীষের টিকিট পেতে তাঁরা দুজনেই জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন—তা নিয়ে বিএনপি মহলে চলছে জোর আলোচনা।
অন্যদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী থেকে জেলার আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রিন্সিপাল ফখরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (একাংশ) থেকে মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী প্রার্থী হচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশাম হকও প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেট সিটির টানা দুই মেয়াদে মেয়র ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততা তখন ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এখনো নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে।
অপরদিকে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। যদিও তিনি পরাজিত হন, তবে ক্লিন ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে দলে তাঁর অবস্থান দৃঢ়।
বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাই ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। মাঠে প্রচারণা ও জনসমর্থনে এগিয়ে আছেন তাঁরা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট-১ আসনে আমি ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনগণের ভোট প্রার্থনা করছি। নগরীর সব শ্রেণিপেশার মানুষ আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তাঁর পক্ষে আমরা কাজ করব।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন—দল এই আসনে মুক্তাদিরকেও বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেন, দল আমাকে প্রার্থী করেছে। আমি গণসংযোগ করছি, সভা-সেমিনারে অংশ নিচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চায়—তারা আমাদের সঙ্গে আছে। এবার দাঁড়িপাল্লা বিপুল ভোটে জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট-১ আসনে এবারও মূল লড়াই হতে পারে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে, যেখানে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকেই ভোটাররা সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।
ইনাতগঞ্জ বার্তা / ইকবাল
Leave a Reply