ইকবাল হোসেন তালুকদার।। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে প্রার্থীতা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে সরব আলোচনা। স্থানীয় চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন কে হবেন আগামী দিনের জননেতা, তা নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক। এমন সময় আলোচনায় উঠে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সম্ভাব্য প্রার্থী, সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ জামিল হোসেন।
সম্প্রতি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা জানিয়ে জনসম্মুখে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মনোনয়ন চাওয়া তাঁর ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং এটি এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক প্রয়োগ।
সিলেটেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ জামিল হোসেন পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন সততা ও সুনামের সঙ্গে ব্যাংকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি খামারবাড়ি এগ্রো প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরিসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে রেখেছেন প্রত্যক্ষ ভূমিকা।
জামিল হোসেন মনে করেন, সিলেট–৩ একটি সম্ভাবনাময় আসন, যেখানে কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার প্রয়োজন। উন্নয়নচিন্তা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা দিয়েই তিনি এলাকায় নতুন গতির সঞ্চার ঘটাতে চান।
তিনি যেসব যোগ্যতাকে সামনে আনছেন—
১. স্বচ্ছ ইমেজ: ব্যাংকিং পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিতাপূর্ণ নেতৃত্বের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
২. মানুষের সমস্যা সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ ধারণা: গ্রাম–শহরের মানুষজনের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখে আসায় মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো তাঁর জানা।
৩. প্রশাসনিক দক্ষতা: ব্যাংকিংয়ে নিয়মনীতি মেনে জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁকে সক্ষম নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে।
৪. তরুণবান্ধব চিন্তা: তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে রয়েছে তাঁর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।
৫. বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি আধুনিকীকরণ, নদী–খাল রক্ষা, পানি সংকট সমাধান, সড়ক–ড্রেনেজ উন্নয়ন ও ডিজিটাল সেবা বিস্তারে রয়েছে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ।
৬. মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক: মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকা তাঁর পরিচয়। স্থানীয়দের একাংশ তাঁকে “নিজের লোক” হিসেবেই দেখে।
উন্নয়নের লক্ষ্য: সিলেট–৩ কে আধুনিক মডেল আসন করা, কৃষি ও খামার আধুনিকীকরণ, স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা, ইউনিয়ন পর্যায়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, সড়ক, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা সমাধান, তরুণ উদ্যোক্তা সহায়তা, নারীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, স্মার্ট ইউনিয়ন ও ডিজিটাল সেবা বিস্তার, দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে সম্ভাব্য লাভ, পরিচ্ছন্ন, গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থী, গ্রাম–শহর উভয় পর্যায়ে সমান জনপ্রিয়তা, তরুণদের শক্ত সমর্থন, মাঠপর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির সম্ভাবনা।
নিজেকে এলাকার “একজন ক্ষুদ্র কর্মী” উল্লেখ করে মোহাম্মদ জামিল হোসেন আরও বলেন,
“দল আমাকে মনোনয়ন দিলে সময়, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু জনগণের সেবায় নিবেদন করব। কথায় নয়—কাজে প্রমাণ করব কেন আমি এই এলাকার সঠিক প্রতিনিধি। তিনি দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা
Leave a Reply