স্টাফ রিপোর্টার: নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের কনকারী পাড়া গ্রামে মালিকানাধীন কৃষিজমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় কোনরকম তদন্ত ছাড়াই দৈনিক মানবজমিন–এর স্টাফ রিপোর্টার, অনলাইন পোর্টাল বার্তা সিলেট–এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট শিক্ষক এম এ বাছিতকে আসামি করায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারিক বা ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রশ্ন উঠছে কীভাবে নাম ঢুকল মামলায়। মামলার বাদী লন্ডনী মিনাল চৌধুরীর পরিবারে এম এ বাছিতের কোনো আত্মীয়তা, জমি–সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি মামলায় এজাহারভুক্ত হলেন,এ নিয়ে সর্ব মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। ৫ আগস্টের পর পুলিশের ‘আচরণ’ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের ঘটনার পর পুলিশ সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা থাকলেও, কোনোরকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন শিক্ষিত সমাজসচেতন ও সাংবাদিককে এভাবে মামলার আসামি করায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জমির বৈধ মালিকানা ও লিখিত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ধান কাটার সময় কোনো মামলা বা আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকা অবস্থায় ৯৯৯–এ ফোনের সূত্র ধরে লন্ডনী মিনালের অভিযোগে পুলিশ বাঁধা দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার অভিযোগ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লন্ডনী মিনালের থানায় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গভীর রাত পর্যন্ত থানায় অবস্থানের সত্যতা নিয়ে (যা থানার সিসিটিভিতে রেকর্ড রয়েছে) জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জরুরি সভা ডেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিক,শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ এম এ বাছিতকে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদ জানান। এম এ বাছিত শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। চাপ সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং এএসপি (নবীগঞ্জ–বাহুবল সার্কেল) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। বার্ষিক পরীক্ষা ও আইন–শৃঙ্খলার স্বার্থে সাময়িকভাবে সব কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়। মামলার প্রধান অভিযুক্ত কৃষক মবু মিয়া বলেন “প্রয়াত গোলাম রব্বানী চৌধুরীর উত্তরাধিকারীদের থেকে লিখিত চুক্তিতে আমি বহু বছর ধরে জমিতে চাষাবাদ করছি। কখনো কেউ বাঁধা দেয়নি। ধান কাটতে গেলে এসআই সুমনসহ পুলিশের দল এসে বাঁধা দেয়। বৈধ কাগজ দেখালেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়—যা ভিডিওতে রেকর্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি আরও বলেন,আমি বিএনপির রাজনীতি করি; তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আমার স্ত্রীকে কেন মামলায় আসামি করা হলো? এটা কি ৫ আগস্ট পরবর্তী পুলিশের নৈতিকতা? ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সাংবাদিক ও শিক্ষকের নাম প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
Leave a Reply