ইনাতগঞ্জ বার্তা ডেস্কঃ যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন। এ কারণেই এ চুক্তিকে ইরান ‘বিজয়’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এছাড়া ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছে, এ চুক্তিটি ইরানের জন্য একটি বিজয়।
জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আগেই ইরান এতে সম্মতি দিয়েছিল। ফলে আলোচনার প্রক্রিয়ায় তেহরানের অবস্থানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১০ দফা দাবির প্রধান দিকগুলো হলো—
১. ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না—এমন একটি বাধ্যতামূলক বা আইনি নিশ্চয়তা।
২. বারবার সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসানের দিকে পদার্পণ করা।
৩. লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা।
৪. ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
৫. আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান: ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান সমস্ত আঞ্চলিক লড়াই বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তি।
৬. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: উপরের শর্তগুলোর বিনিময়ে ইরান তাদের বর্তমান অবরোধ তুলে নিতে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হবে।
৭. নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি নতুন প্রোটোকল প্রবর্তন করা, যার মধ্যে জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতি জাহাজ থেকে ২ মিলিয়ন (২০ লক্ষ) ডলার ফি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৮. ইরান এই ট্রানজিট ফি ওমানের সাথে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে, যেহেতু ওমান এই প্রণালীর অপর পাশে অবস্থিত।
৯. সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার পরিবর্তে ইরান এই ফির অংশটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করবে।
১০. এনপিটি (NPT) বা পারমাণবিক অস্ত্র অবিস্তার চুক্তির অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইরানের অধিকারের স্বীকৃতি। চরম ভালো লাগের বিষয় হল, দাম্ভিক সাম্রাজ্যের অস্বাভাবিক দম্ভ ধূলিসাৎ হয়েছে। ওদের চূড়ান্ত পতন অনিবার্য। আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটবে খুব শীগ্রই।
Leave a Reply