চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে (৪২)। শনিবার বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় আলমগীরের স্ত্রী ও সন্তান অটোরিকশায় পেছনে ছিলেন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আলমগীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মুক্তি পান এবং পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আলমগীরের তিনটি ভিডিও, যেখানে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ভিডিওগুলোতে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান ও বখতিয়ার ফকিরসহ কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন তিনি।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, আলমগীর এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন। ওই ব্যক্তি তাকে সতর্ক করে বলেন, “আপনার গ্রুপে বখতিয়ার ফকিরের লোক ঢুকিয়ে দেবে, এরপর আপনাকে খুন করবে।” জবাবে আলমগীর জানতে চান, “আমাকে কি এক সপ্তাহের মধ্যে মেরে ফেলবে?” তখন ওই ব্যক্তি বলেন, “সুযোগ পেলে আধা ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলবে।”
আরেকটি ভিডিওতে এক সমাবেশে আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, একমাস ধরে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমাকে মারবে বখতিয়ার ফকির, আলাউদ্দিন, হেলাল। আমি নিরাপত্তা চাই। আমি মরলে দায় ওদের।”
অন্য একটি ভিডিওতে মুঠোফোনে এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে আলমগীর বলেন, “তুমি যে শোডাউন করিয়েছ, ওরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে আমাকে থ্রেট দিয়েছে। তিনটি মোটরসাইকেলে অস্ত্র ছিল। জনগণ পাশে না থাকলে আজই হয়তো আমি মরে যেতাম।”
হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন,আমার স্বামীকে খুন করার জন্য রায়হান বাহিনীকে ভাড়া করা হয়েছিল। ট্রাক দিয়ে পথ আটকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে বখতিয়ার ফকির সরাসরি জড়িত।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনীয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে। কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো মামলা হয়নি, তবে অভিযান চলছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “নিহত আলম যাদের আগ থেকে সন্দেহ করতেন, তাদের সংশ্লিষ্টতা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। আলমগীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাউজান উপজেলা ও উত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড মর্মাহত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, আলমগীর হত্যার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকতে পারে। দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন তারা।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা/ ইকবাল
Leave a Reply