সিলেট প্রতিনিধি॥ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে পাথর লুট থামছেই না। সম্প্রতি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের পর প্রশাসনের অভিযান চললেও এবার ফের পাথর লুট চলছে ‘পাথরের খনি’খ্যাত শাহ আরেফিন টিলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহ আরেফিন টিলার প্রায় ৮৫ শতাংশ অংশ থেকে ইতিমধ্যে পাথর লুট হয়ে গেছে। প্রশাসনের অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ফের রাতের অন্ধকারে টিলা কেটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে।
গেলো বুধবার রাতে এবং বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে শাহ আরেফিন টিলা থেকে লুট করা মোট পাঁচ ট্রাক ও ট্রাক্টরভর্তি পাথর জব্দ করেছে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, বুধবার রাতে ভোলাগঞ্জ এলাকায় চারটি ট্রাক্টরভর্তি পাথর নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি টহল দেখে চালকেরা গাড়ি ও পাথর ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ট্রাক্টরগুলো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে তল্লাশিচৌকিতে আরও এক ট্রাকভর্তি পাথর জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা পাথর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ওসি রতন শেখ আরও বলেন, “আটক করা ট্রাক ও পাথর শাহ আরেফিন টিলা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দের সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে সাদাপাথর এলাকার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি তল্লাশিচৌকি বসানো হয় কোম্পানীগঞ্জে। এসব চৌকিতে পাথর ও বালুবাহী যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই চলছে। বৈধ কাগজ না থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত শাহ আরেফিন টিলা। কথিত আছে, প্রায় সাত শত বছর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) এখানে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই টিলাটির নামকরণ হয়। এখন সেই ঐতিহাসিক টিলা অবৈধ পাথর উত্তোলনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা/ ইকবাল
Leave a Reply