আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ঘোষণার পর থেকেই দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক কোন্দল ও বিক্ষোভ। অন্তত ২৩টি আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব আসনে টানাপোড়েন ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ে ঘোষিত প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের সঙ্গে প্রার্থীরা কেমন আচরণ করছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্য সৃষ্টি হচ্ছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলের সিদ্ধান্ত, যেখানে প্রার্থী ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হবেন, সেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘কয়েকটি আসনে ক্ষোভ হতেই পারে। এসব আমরা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ফাঁকা আসন সব মিত্রদের জন্য রাখা হবে না। এর মধ্যে কিছু আসনে দলীয় প্রার্থীও ঘোষণা করা হবে।
দলের সূত্রে জানা গেছে, ৬৩টি আসন এখনও ফাঁকা রাখা হয়েছে-এর বেশিরভাগই শরিক দলের জন্য বরাদ্দ হতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করা হবে।
ঘোষিত আসনের মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর ও কক্সবাজারসহ অন্তত ২৩টি আসনে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, এমনকি মশাল মিছিলও করেছেন।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রউফের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ১২ ইউনিয়নের ৩৩ নেতা দলীয় মহাসচিব বরাবর আবেদন করেন। একই জেলার সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে প্রার্থী এম ইকবাল হোসেন ও মনোনয়নবঞ্চিত আহম্মেদ তায়েবুর রহমানের সমর্থকদের সংঘর্ষে আটজন আহত হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া-কসবা) আসনেও মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর) আসনে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল হাকিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে নয়াবাজারে হাজারো নেতাকর্মীর মশাল মিছিল হয়েছে। বিভাগের হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সালকে পরিবর্তন করে শাম্মী আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়।
রংপুর-৩ ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনেও একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ঘোষিত প্রার্থীদের নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রাথমিক তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২৩৭ আসনের তালিকা সম্ভাব্য, চূড়ান্ত নয়। শরিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
৩ নভেম্বর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব এ তালিকা ঘোষণা করেন। ওই সময় সিলেটের একটি আসনে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়। পরে মাদারীপুর-১ আসনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
বিএনপি নেতারা জানান, ‘মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের দায়িত্ব হলো দলের ঐক্য বজায় রাখা ও ক্ষোভ প্রশমন করা। তারা ব্যর্থ হলে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে মনোনয়নবঞ্চিতরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দল শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেবে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন নির্বাচনী প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা/ ইকবাল
Leave a Reply