স্টাফ রিপোর্টার।। কাপড় ব্যবসায়ীর পরিচয় দিয়ে নবীগঞ্জের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডার একটি প্রতারক চক্রের সদস্য ইকরাম হোসেন।
ভুক্তভোগী নবীগঞ্জ উপজেলার পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী জাফর ইকবাল জানান, হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে নিজেকে চট্টগ্রামের হোলসেল কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ইকরাম হোসেন তার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিভিন্ন অজুহাতে কাপড় পাঠানোর কথা বলে ধাপে ধাপে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক।
জাফর ইকবাল জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবীগঞ্জে মাল পাঠানোর কথা বলে ইকরাম বিকাশের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ বারে মোট ৫৫ হাজার টাকা নেয়। এর আগে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ১৫ হাজার টাকা নেয়। এছাড়া গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নবীগঞ্জে এসে ইকরাম তার স্ত্রীর জরুরি সিজার অপারেশনের কথা বলে আবেগের সৃষ্টি করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সাক্ষী রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ইকরাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চট্টগ্রাম ফিরে গিয়ে দ্রুত কাপড় পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো মাল পাঠানো হয়নি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি শিশুদের দুটি লট কাপড় পাঠানোর কথা থাকলেও তা আর পাঠায়নি।
জাফর ইকবাল আরও বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইকরাম ফোন করে জানায় সে টাকা খরচ করে ফেলেছে, টাকা ফেরত দিতে পারবে না। এমনকি বিকাশ ও ব্যাংকের যেসব নম্বরে টাকা নেওয়া হয়েছে সেগুলো নাকি তার নয় বলে দাবি করে।
এ বিষয়ে টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক ইকরাম ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দিয়ে বলে, কেউ তাকে ধরতে পারবে না, আইনেও কিছু করতে পারবে না।
ভুক্তভোগী জাফর ইকবাল বলেন, আমি একজন আইন মেনে চলা মানুষ। অনেকবার অনুরোধ করেও টাকা না পেয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছি। খুব শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
সূত্র জানায়, প্রতারক ইকরাম প্রথমে নিজেকে ‘ইকরা এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক বলে পরিচয় দিলেও পরে বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
Leave a Reply