ষ্টাফ রিপোর্টার: নবীগঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদ নির্মান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা চলছে। কোটি টাকার উপরে হিসাবের গড়মিল নিয়ে গন্ডগোলের সুত্রপাত হয়েছে। এনিয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। এক পক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন মসজিদের মোতায়াল্লী মোঃ জিতু মিয়া। অপর পক্ষের অভিযোগ হিসাব দিচ্ছেন না মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক লন্ডন প্রবাসী ফয়জুল হক। দ্বন্দ্বের জের ধরে এখন মসজিদের নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে। মসজিদের নির্মান কাজ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন গ্রাম ও এলাকাবাসী। ঘটনাটি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মজলিসপুর গ্রামের জামে মসজিদ নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ হলেও কোন সুরাহা আসেনি।
জানাগেছে, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের সিক্স লেনের কাজ শুরু হলে মহাসড়কের পাশে মজলিসপুর জামে মসজিদের ভুমি অধিগ্রহনের টাকা নিয়ে মুল দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ভুমি অধিগ্রহনের জন্য সরকার থেকে ক্ষতিপুরন বাবদ মসজিদ কমিটিকে ৬ কোটি ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ২শ ২৭ টাকা প্রদান করা হয়। উক্ত টাকা উত্তোলন করে গ্রামবাসী নতুন মসজিদের দায়িত্ব প্রদান করেন তিন লন্ডন প্রবাসীকে। সভাপতি হলেন সাহেব আলী, সাধারন সম্পাদক ফয়জুল হক ও কোষাধ্যক্ষ মুহিত মিয়া। গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বার জামাল মিয়া জানান,তাদের ব্যাংক হিসাবে গন্ডগোল থাকায় বিরোধ উৎপত্তি হয়। এর জের ধরে মারামারি হয়েছে। ফলে মসজিদের নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা৷ এডভোকেট আব্দুর রউফ বলেন, মসজিদের পরিচালনা কমিটি হচ্ছে মনগড়া
ভাবে গঠন করা হয়েছে। এটা গ্রামের লোকজনের সার্বজনীন মনোনীত কমিটি নয়। তারা নিজেরা পছন্দের বলয়ে সভাপতি ,সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ হয়ে মসজিদের ৯ কোটি টাকা আত্বসাতের জন্য মনগড়া ভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে অধিগ্রহনে তোলা হয়েছে ৮ কোটি টাকা আর আগের ফান্ডে রয়েছে এক কোটি টাকা মোট ৯ কোটি টাকা।
এখন মসজিদের একাউন্ট থেকে এক কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ভাবে সরিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত সাধারন সম্পাদক লন্ডন প্রবাসী ফয়জুল হক । সে মসজিদের সঠিক হিসাব নিকাশ দিচ্ছে না। ফয়জুল হক লন্ডনী প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রামের অসহায় নিরহ মানুষ তাদের ভয়ে কেউ কথা বলছেন না।
এবিষয়ে মসজিদের মোতায়াল্লী মোঃ জিতু মিয়া বলেন, আমাকে মসজিদে অতর্কিতভাবে মুহিত মিয়া লন্ডনীর লোকজন হামলা করেছে। মসজিদের হিসাব নিকাশ সব কিছু সঠিক থাকা সত্বেও মুহিত মিয়া এই মারামারি লাগিয়েছেন। ফয়জুল হক কোন হিসাবে নয়-ছয় করেননি।
এদিকে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক ফয়জুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি হিসাব দিতে প্রস্তুত কিন্তু মুহিত মিয়ার লোকজন ইচ্ছে করে গন্ডগোল লাগিয়ে রাখছে। তারা হিসাব নেয়ার আগেই মুহিত মিয়া লন্ডনে চলে গেছেন শুনেছি। তিনি বলেন, আমি কোন টাকা আত্বসাৎ করিনি, মসজিদ নির্মানের জন্য টাকা উত্তোলন করেছি এনিয়ে বিষয়টি ভুল বুঝানো হচ্ছে।অপর কথা হলো ফয়জুল হক লন্ডনী হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না।এনিয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Leave a Reply