নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেষা নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর জনতার বাজার ও মেলার বাজার পশু হাট’টি সাধারণ মানুষের জন্য বিষফোড়াঁ হয়ে দাড়িয়েছে। মহাসড়কের উভয় পাশে অবৈধভাবে এই দু’টি বাজার বসানোর ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভয়াবহ দুর্ঘটনা পতিত হয়। অনেক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া বাজার সংলগ্ন রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টান। বাজারের কারনে লোকজনের শব্দে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ফলে ইউনিয়নবাসী তাদের গলার কাটা উক্ত বাজার দু’টি বন্ধ করে মহাসড়কের পাশ থেকে দুরবর্তী কোন নিরিবিলি স্থানে বৈধভাবে বাজার স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।
জানাযায়, উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের দিনারপুর পরগনায় অবস্থিত পুরাতন মেলার বাজার বিলুপ্ত করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠে জনতার বাজার পশুর হাট। জেলার বৃহত্তম পশুর হাট হিসেবে খ্যাত উক্ত বাজারে প্রতি বছর কোটি টাকার পশু বিক্রি হয়ে থাকে। প্রথম দিকে সরকার বাজারটি ইজারা দেয়। মাঝে খাস কালেকশন আদায় করতেন। বর্তমানে ৫/৭ বছর ধরে স্থানীয় কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দিয়ে সরকারের ইজা আটকে দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা মতো বাজার চালিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা পশু হাট থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে স্থানীয় লোকজন ভাগ বাটোয়ারা করে লুটেফুটে খাচ্ছেন। বঞ্চিত হচ্ছে সরকার বিরাট অংকের রাজস্ব থেকে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. মো. ফরিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনতার বাজার অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপদ, যানজটমুক্ত এবং গতিশীল যান চলাচল নিশ্চিতকল্পে দিনারপুর জনতার বাজারটি (পশুর হাট) বর্তমানে পেরিফেরীভুক্ত নয়। পশুর হাট বসার দিন মহাসড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যে অবৈধভাবে স্থাপিত দিনারপুর জনতার বাজার পশুর হাট’টি জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিদের্শনা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- অবৈধভাবে স্থাপিত জনতার বাজার পশুর হাট জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অপসারণ করার জন্য এবং উক্ত স্থানে পুনরায় বাজার স্থাপন করা হলে মহাসড়ক আইন, ২০২১ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড টানানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়। সেই মোতাবেক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেয়ার দু’দিনের মাথায় বাজার কমিটির লোকজন তা ছিড়ে ফেলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিস সুত্রে জানায়, কোনো ব্যক্তি সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাট পরিচালনা করলে বা অবৈধভাবে হাট পরিচালনায় সহযোগীতা করলে অথবা মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে হাট-বাজার আইন ২০২৩ ও মহাসড়ক আইন ২০২১ অনুসারে দন্ডনীয় অপরাধ হবে। আইন অমান্যকারীকে সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনা না মেনে বাজার বসানো হলে প্রশাসন বাজারটি বন্ধ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন ও বাজার কমিটির হাতে নাজেহাল হতে হয়। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও হয়। বর্তমানে এলাকায় একাধিক ভাগে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অপর একটি পক্ষ পুরাতন মেলার বাজার পশুর হাট চালু করেছেন। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দু’টি পশুর হাট। মধ্য খানে রাস্তা। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাড়ানো থাকে পশু বহনকারী পিকআপ, ভ্যান, ট্রাক ও আগত ক্রেতাদের মোটর সাইকেল, মাইক্রো ইত্যাদি। ফলে ঝুকিঁপুর্ণভাবে চলাচল করতে দেখা যায় দুর পাল্লার যাত্রীবাহি গাড়ী গুলোকে। এছাড়া বাজার দু’টির সংলগ্ন রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টান। বাজারের শব্দ দুষনে শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী পুরাতন মেলার বাজার ও জনতার বাজার পশুর হাট আইনের প্যাচে সরকারকে রাজস্ব ফাকিঁ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চলছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে বড় বড় দূঘর্টনা। তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে যানজট। অতি দ্রুত বাজার দুটি বন্ধ করা এখন ইউনিয়নবাসীর দাবী। প্রয়োজনে মহাসড়ক থেকে ৫০০/১০০০ কিঃমিঃ দুরে কোন স্থানে সরকারের অনুমতি নিয়ে বাজার বসানো হউক।
Leave a Reply