নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ না করার অভিযোগে একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৎপর হয়ে উঠেছে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সন্ধ্যায় প্রশাসনের উদ্যোগে নবীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের আউশকান্দি কিবরিয়া চত্বরসহ একাধিক পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ করা হয়।
নবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেমের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক দল সন্ধ্যারাতে এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযানকালে কোনো প্রার্থী বা তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি না থাকায় কাউকে জরিমানা করা হয়নি।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ক্ষুদে বার্তার জবাবে তিনি জানান, তিনি নিজ হাতে ও তার কর্মীদের মাধ্যমে অনেক প্রচারণা সামগ্রী ইতোমধ্যে সরিয়েছেন এবং সবাইকে দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার দাবি, অধিকাংশ সামগ্রী ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, তার কোনো ব্যানার, পোস্টার কিংবা দেয়াললিখন ছিল না। তিনি নির্বাচন কমিশনের আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তার সমর্থকরা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এম. মুখলিছুর রহমান জানান, তিনি ও তার নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে সব ধরনের প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করেছেন।
হবিগঞ্জ জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সচিব ও হবিগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী পলাশ মাহমুদ বলেন, তার কোনো নির্বাচনী ব্যানার বা ফেস্টুন ছিল না। যেগুলো ছিল, সেগুলো দলীয় কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট ব্যানার।
আনজুমানে আল ইসলাহর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আনোয়ার হোসেন সালেহী জানান, তার প্রচারণা সামগ্রী ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নবীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, “আমি নিজে উপস্থিত থেকে প্রচারণা সামগ্রীগুলো অপসারণ করেছি। এ সময় কোনো প্রার্থীর লোকজন পাওয়া যায়নি, তাই কাউকে জরিমানা করা হয়নি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করা হয়েছে। অভিযানকালে কাউকে পাওয়া যায়নি।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply