নবীগঞ্জ প্রতিনিধি।। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র (আইন) সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের সাম্প্রতিক নির্বাচনে একই পদে একাধিক ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি আশাহীদ আলী আশা’র পক্ষে জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাব্বির আহমদ এ লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অযোগ্য ব্যক্তিদের স্থায়ী সদস্যপদ প্রদানসহ নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় আশাহীদ আলী আশা’র কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গঠনতন্ত্রের ১১(গ) ধারা লঙ্ঘন করে বন্ধ পত্রিকার সাংবাদিক ও মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীদের স্থায়ী সদস্য করা হলেও নবীগঞ্জ উপজেলার অনেক যোগ্য ও মেধাবী সাংবাদিককে সদস্য করা হয়নি।
আরও অভিযোগ করা হয়, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও সম্পূর্ণ অবৈধ প্রক্রিয়ায় আশাহীদ আলী আশা’র নাম প্রেসক্লাবের সদস্য তালিকা থেকে কর্তন করা হয়েছে। কার্যকরি কমিটির বৈধ নির্বাচিত সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো সভার নোটিশ না দেওয়া, তথ্য উপাত্ত থেকে বঞ্চিত রাখা এবং কার্যত দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী বলে নোটিশে দাবি করা হয়।
লিগ্যাল নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগসমূহ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিষ্পত্তি, অবৈধ নির্বাচন কমিশন বাতিল এবং আশাহীদ আলী আশা’র সকল সাংগঠনিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শাব্বির আহমদ বলেন, “পরপর দুটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। আমার মোয়াক্কেলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে আশাহীদ আলী আশা বলেন, “লিগ্যাল নোটিশের তোয়াক্কা না করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বলয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এতে একই পদে একাধিক ব্যক্তিকে ভাগাভাগি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রেসক্লাবের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এক বছরের কমিটিতে ছয় মাস করে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি এখন হাস্যরসের আলোচনায় পরিণত হয়েছে।”
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফজলুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তা/ সুয়েব
Leave a Reply